বিশালগড় আছে বিশালগড়ের মতই।সাধারণ মানুষের কাছে এখন আতঙ্ক নগরী বিশালগড়।দেখতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও আদতে কিছুই ঠিক নেই।পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি চ্যালেঞ্জের মুখে।এক কথায় আইনের শাসন বিশালগড়ে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে।সোমবার বিকেল ও সন্ধ্যায় পরপর দুটি আক্রমণের ঘটনা তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ।দুপুরে সমাজদ্রোহীদের হাতে বিশালগড় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজেশ সূর চৌধুরী আক্রান্তের পর সন্ধ্যায় বিশালগড় নিচের বাজারের গণেশ প্রতিমা আনতে গিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত প্রণয় কুমার দাস নামে এক যুবক।অন্যদিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশালগড় থানা ঘেরাও করে রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান নবদল বণিক,নিখিল চক্রবর্তী সহ বিশালগড়ের সজ্জন ব্যক্তিবর্গরা।মঙ্গলবার দুপুর বারটার মধ্যে শিক্ষকের উপর আক্রমণকারীও এক সাধারণ যুবককে রক্তাক্ত করার পেছনে যারাই দায়ী তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে অবশেষে অবরোধ মুক্ত হয় বিশালগড় থানা।খবর নিয়ে জানা গেছে সোমবার দুপুরে বিশালগড় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজেশ সুর চৌধুরী স্কুল সেরে বাড়ি যাওয়ার পথে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের সামনে পৌঁছতেই একদল দুষ্কৃতী তিন তিনটি গাড়িতে এসে শিক্ষকের পথ আগলে ধরে।কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই উনার উপর এলোপাথরি আক্রমণ শুরু করে।ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে সমাজদ্রোহীরা ঘটনাস্থল থেকে গা ঢাকা দেয়।বিষয়টি জানাজানি হতেই বিশালগড়ের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে আক্রান্ত শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিশালগড় থানায়।এর এক ঘন্টা বাদেই মধ্যলক্ষী বিলের বাসিন্দা প্রণয় কুমার দাস বিশালগড় নিচের বাজার গণপতি উৎসব কমিটির গনেশ প্রতিমা আনতে গিয়ে অফিসটিলা বনবিহার এলাকায় দুষ্কৃতীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়।সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রণয়কে উদ্ধার করে আনা হয় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে।খবর পেয়ে মহকুমা হাসপাতালে ছুটে আসে টিআইডিসি চেয়ারম্যান নবাদল বনিক সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা সহ পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা।এদিকে প্রনয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে।সব মিলিয়ে বিশালগড়ের পরিস্থিতি খুবই ভয়ানক।বিশালগড় মহকুমার প্রত্যেকটি স্পর্শকাতর এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।